Editor’s Note: Movie “Praktan”

প্রাক্তন সিনেমাটা খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, বিশেষ করে ট্রেনে যাওয়ার সময় অপরাজিতা আটক এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত অর্থাৎ সিনেমায় প্রসেনজিতের প্রাক্তন এবং বর্তমান বউয়ের কথোপকথনটি বারবার ঘুরে কিরে সোশ্যাল মিডিয়াতে খুব চর্চিত একটি বিষয়। সত্যি কথাগুলো মনে ছুয়ে যাওয়ার মত অপরাজিতা তোর মুখ দিয়ে যে কথাগুলো বলানো হয়েছে কথাগুলো যে কোন রকম সম্পর্ক কি বিশেষ করে ভালবাসা সম্পর্ক সাংসারিক সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার জন্য খুব মোটিভেশনাল বক্তব্য। জীবনে কিভাবে মানিয়ে নিয়ে চলতে হয় কিভাবে এই ডিভোর্সের যুগে একটি সংসারকে সম্পর্ককে বাঁচাতে হয় তা বোঝা যাবে এই কয়েক মিনিটের বক্তব্যের মাধ্যমে।

বক্তব্যটিতে বলা হয়েছে যদি ভালোবাসো তার সবটা দিয়ে ভালোবাসা ভালোটাকেও ভালবাসবে খারাপটাকেও ভালবাসতে হবে। কথাটা একদম ঠিক ভালো খারাপ দুটোকেই ভালোবাসা উচিত। এডজাস্টমেন্ট করতে হবে। এডজাস্টমেন্ট মানে হেরে যাওয়া অবশ্যই নয়। আমি কিছু দিলে তার বিনিময়ে অনেক কিছু পাওয়া যাবে এভাবেই সম্পর্ক এগিয়ে চলে। এখানেই বইটার সার্থকতা ।
কিন্তু বিষয়টিকে একটু ঘুরিয়ে দেখা যায় আমি যে কথা বলি ওপরে লিখলাম সেটা তো সবাই বলছে সেটা স্বাভাবিক ব্যাপার। সত্যি তো এরকম ভাবনা থাকলে বিভোর্স হওয়ার কোন গল্পই থাকে না । কিন্তু এখানে আমার একটি বক্তব্য হচ্ছে যে কোন রিলেশনে কেউ কি এটা ভেবে সম্পর্কে জড়ায় যে তাদের সম্পর্ক একদিন শেষ করতে হবে বা ডিভোর্স হয়ে যাবে । তা তো নয়, তবুও তো হচ্ছে তাহলে তখন আমরা এই কথাগুলো মনে কেন রাখি না এই কথাগুলো মনে রাখলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায় তাই না। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো, ধরুন আপনি নিজেই মতবাদে বিশ্বাসী কিন্তু ধরুন আপনার স্বামী বা স্ত্রী একটা জন্মদিন একটা অ্যানিভার্সারি বা কোনও বিশেষ মুহূর্তকে ভুলে যেতেই পারে আজকের এই ব্যস্ততম দিনে সত্যি কথা বলতে এগুলো নিয়ে আদিখ্যেতা করার খুব একটা উৎস আমারও নেই কিন্তু তার পরেও যে মানুষটার সবকিছু ভালো-মন্দ আপনি সারাক্ষণ দেখে যাচ্ছেন সেই মানুষটা থেকে সামান্যতম মনে করানোর পরেও তার মনে না থাকে তার হাজার ব্যস্ত থাকে আপনি মাফ করলেও একদিনের বিশেষ কি পারেনা আপনার সাথে কাটাতে। আপনার কি আপনার জীবন সঙ্গী থেকে এটুকু দাবি থাকতে পারে না। আপনার জীবন সঙ্গী আপনাকে এই ডায়লগ গুলো শুনব বলে যাবেন যে আমাকে বিশ্বাস করো বলে সে সামনে হাজার ছেলে মেয়ের সাথে ঘুরে বেড়াতে গল্প করবে কিন্তু আপনাকে বিশ্বাস ভঙ্গ করলে চলবে না। যদি কোনদিন আপনি বিশ্বাস করে তাকে দুটো কথা বলে ফেলেন যে আপনার কোন জায়গায় খারাপ লেগেছে সেখানে সমস্যা কেন আপনি একজাস্ট করতে পারছেন না। ঠিক কথা যে মানুষটাকে আপনি ভালবাসেন সেই মানুষটাকে খুব ইচ্ছে করেন না তাকে আপনি সন্দেহ না করলেও দুটো কথা শুনাবেন এত বড় আপনার পর্দা এটা আপনার হওয়া উচিত নয় কারণ সে আপনার প্রতি সৎ ।

এবার প্রশ্ন হচ্ছে আপনি এত তার প্রতি সৎ, তাহলে আপনি যদি তাকে জানিয়েই হোক বা তার সামনেই হোক কোন পুরুষের সাথে সেরকম ভাবেই গল্প করে যে রকমটা আপনার জীবন সঙ্গীকে আপনি দেখেছেন তাহলে সেখানে আপনার জীবন সঙ্গীরা আপনাকে সমস্যা কেন হবে বলুন তো সেই মেয়েটি কেন আপনাকে বিশ্বাস করতে পারবে না আপনাকে সে প্রশ্ন করবে কেন। তার প্রত্যেকটা কথা তার প্রত্যেকটা ব্যবহার আপনাকে এড্রেস করতে হবে আপনি কিছু শুনতে হবে কারণ যদি আপনি না করেন তাহলে আপনি এডজাস্টবিন নেন সে ক্ষেত্রে তো সামনের লোকটার আপনার কথা শোনার কথা আপনাকে বোঝার কথা আপনাকেও একসেপ্ট করার কথা আপনার জন্য তাকেও অ্যাক্সিডেন্ট করতে হবে সেই ক্ষেত্রে তাহলে খামতিটা কোথায় আছে । তখন অপরাধী তার জন্য এ কথাগুলো তাদের মনে আসবে না কেন?
আমি যদি সিনেমার ভাষাতেই আসি তাহলে প্রসেনজিৎ কিন্তু প্রথম স্ত্রীর ক্ষেত্রে ভুলগুলো করেছিল সেগুলোতে সে অনুতপ্ত হয়েছিল বলেই পরের বিবাহের ক্ষেত্রে সেই ভুলগুলো আর রিপিট করেন। সেই ক্ষেত্রে ও বুঝতে পেরেছিল প্রিয় ক্ষেত্রেই ভুলগুলো করলে এই সংসার ও তার ঠিকতে না পারে আর সে এই ভুলগুলো করেনি বলেই আজকে অপরাজিতা আপনার মুখ দিয়ে এই কথাগুলো বলানো সম্ভব হয়েছিল যদি সেই ফুল আবার সেই রিপিট করতো তাহলে কে ভুলতে পারি আজকে হয়তো ঋতুপর্ণার সেই কথাগুলোই ভাইরাল বেশি হতো যেখানে বলা হয়েছিল একটা অ্যানিভার্সারি একটা জন্মদিন এগুলো বারবার আসে না। বাকিটা আপনি জানেন আপনি আমার থেকে অনেক অভিজ্ঞ তবে কখনো ভেবে দেখবে তালি তো আর এক হাতে বাজে না।

Leave a Comment

Translate »