”BHARGA” FILM

সম্প্রতি, 27 সেপ্টেম্বর, সমাজের কঠিন বাস্তব চিত্রের উপর ভিত্তি করে একটি নতুন বাংলা ছবি ‘ভর্গ’ মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন শুভম রায় এবং প্রযোজনা করেছেন আকাশ অঞ্জলি প্রোডাকশন হাউস। রোমান্স, কমেডি, অ্যাকশনে ভরপুর এই মুভিটিতে আবেগ, ফ্যামিলি ড্রামা এবং সাসপেন্সও রয়েছে।

এখন বলার বিষয় হচ্ছে সিনেমার প্রাসঙ্গিকতা। সিনেমাটি যে ঘটনার প্রেক্ষিতে তৈরি হয়েছে তা বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি এবং সর্বকালীন । খুব সহজেই তোলাবাজি বা সমাজের ক্ষমতাশালী মানুষরা তাদের নাম হারানোর ভয় কোন মহৎ ব্যক্তির কাজকে বন্ধ করার জন্য উঠেপড়ে লেগে পড়ে। যখন তারা সেটা পারে না তখন হাতিয়ার করে চিরকালীনভাবে বাড়ির নারীদের। সত্যিই এই ধারণাটি এতটাই বাস্তবিক যে একে কোনভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

ভর্গ সিনেমাটিতে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর ছায়া প্রতিষ্ঠিত হলেও এই সিনেমার কাহিনী কিন্তু চিরকালীন । আর খুব স্বাভাবিকভাবে এটা আমরা যারা দর্শকবৃন্দ তারা এটুকু বুঝি যে একটি সিনেমা তৈরি হতে বেশ কয়েক মাস কখনো কখনো বছর কেটে যায় সেই অর্থে দেখতে গেলে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সিনেমাটি যদি জড়িত থাকতো তাহলে তার প্লট তৈরি করতে অনেক সময় লেগে যেত। সিনেমা ডাইরেক্টর বা প্রডিউসার এর ভাষায় এই সিনেমার কাহিনীটি একান্তই নিজস্ব বর্তমান ঘটনা সঙ্গে এই সিনেমার কাহিনীর তাৎক্ষণিক মিল থাকলেও সেটি পুরোটাই কাকতালীয় বলে উল্লেখ করেছেন । প্রধান চরিত্র সৌরভ দাসের কথায় এই সিনেমাটির কাহিনী অনেক আগে থেকে তৈরি হলেও বর্তমান সময়ে এই সিনেমাটি রিলিজ হওয়া খুবই প্রাসঙ্গিক।

ভর্গ সিনেমার প্রডিউসার ভক্তিপদ , ডাইরেক্টর শুভম রায় অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর সত্যজিৎ প্রামানিক এবং শুভঙ্কর চ্যাটার্জী ও অন্যান্যদের কথায় সিনেমাটি নিয়ে তারা খুব আশাবাদী কারণ সিনেমার যে ঘটনা প্রবাহ সেটি বহুদিন আগে তৈরি হলেও এই সিনেমাতে আমরা যে জাস্টিস পেয়েছি সেই জাস্টিস এখনো পর্যন্ত সমকালীন ঘটনাতে পাইনি এবং তার প্রটেস্ট আমরা এখনো করে চলেছি । তাই খানিকটা কাকতালীয়ভাবে হলেও এই জাস্টিস কিন্তু সমস্ত না পাওয়া বিচারের সাপেক্ষে একটা প্রতিবাদ। তাই বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এই ছবিটির প্রাসঙ্গিকতাকে কোনভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

এর সাথে আর একটা কথা যদি না বলা হয় তাহলে হয়তো এই সিনেমাটি তৈরির পিছনে মহৎ উদ্দেশ্যকে খানিকটা ছোট করা হয়ে যাবে। সিনেমার প্রডিউসারের প্রথম ছবি তৈরীর পিছনের মহৎ উদ্দেশ্য হলো এই ছবি থেকে প্রাপ্য লভ্যাংশের সাহায্যে গড়ে করে তোলা হবে একটি হসপিটাল। তাই সিনেমার হিরো সৌরভ দাস সহ সকলের নিবেদন আপনারা সকলে যাতে সিনেমাটি হলে গিয়ে দেখেন । এই প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে পরিচিত এবং প্রধান চলচ্চিত্র প্রদর্শন স্থান হল নন্দন। প্রত্যেক পরিচালকই চান যে তাদের সিনেমাটি নন্দনে একবার হলেও প্রদর্শিত হোক। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি, তাতে নতুন সুযোগপ্রাপ্ত কলা কুশলীদেরও উৎসাহ অনেক বাড়ে।

তবে এটা খুব সত্যি কথা আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার এই সক্রিয়তার কারণে সত্যি বোধহয় সিনেমা হল গুলো বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে। গার্গী সেনগুপ্ত মনিরাজ টাইমস প্রেজেন্ট অ্যানুয়াল কনসার্ট 2K24 এর অনুষ্ঠানে ভর্গ প্রমোশনে এসে বলেন, একটা সিনেমা তৈরি করতে বহু মানুষের বহু দিনের পরিশ্রম থাকে তাই সেই সিনেমাটি যদি আমরা হলি গিয়ে উপভোগ না করে সোশ্যাল মিডিয়ার সক্রিয়তার কারণে বাড়ি বসে দেখে নিই তাহলে এদের পরিশ্রম যেমন বৃথা যাবে তার সাথে সাথে সিনেমা হলে যারা প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে তাদের অতি রোজগার বন্ধের মুখে চলে যাবে । এটা সত্যি আমাদের ভাবার বিষয়।

Leave a Comment

Translate »